শিরোনাম
Home » সর্বশেষ » ভৈরবে ৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান

বিজয়ের মাস;

ভৈরবে ৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান

58 / 100 SEO Score

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৫০জন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, ভৈরব উপজেলা শাখার উদ্যোগে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় ফুড প্যালেস রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তোফাজ্জল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল বাহার, সদস্য সচিব মো. ফজলুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম আঙ্গুর ও সহ-সভাপতি ফাতেমা বেগম।অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দেলুয়ার হোসেন সুজন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. সজীব আহমেদ।


অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন ভৈরব পৌরসভার তিনবারের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফিরোজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তোফাজ্জল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল বাহার, ফরিদ আহমেদ ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দোয়া ও মিলাদ পাঠের মাধ্যমে শহীদ ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বিজয়–২৫’ লেখা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকসংবলিত একটি করে মাফলার এবং একটি করে গ্লাস মগ উপহার দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাংলাদেশ কখনো স্বাধীন হতো না। স্বাধীনতার ফলেই আজ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাস করছে এবং শিক্ষিতরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর একটি কুচক্রী মহল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করছে এবং ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। দেশ কখনো দুইবার স্বাধীন হয় না-গণঅভ্যুত্থানকে নতুন স্বাধীনতা হিসেবে প্রচার প্রশিক্ষণ ও চেতনা জমা দিইনি।”
সভাপতির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এখনো সচেতনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আছেন। যারা ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, সেই কুচক্রী মহলকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
জেলা কমিটির সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ বলেন, “যখন পৃথিবীতে আর কোনো মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকবেন না, তখন আমরাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আগামীর প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেব।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করে এবং ১৯৭১ সালের চেতনাকে বিশ্বাস করে। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দল অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
রাত ৯টায় সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল

Author

সত্য খবর, সব সময়ই
নিউজ টুডে বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম