শিরোনাম
Home » সর্বশেষ » খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড়

কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শরীফুল আলমকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য:

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড়

53 / 100 SEO Score

কেন্দ্রীয় বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মো. শরীফুল আলমকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের বিরুদ্ধে। গতকাল ৬ডিসেম্বর, শনিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ ও সমর্থকদের নিয়ে সভা করে ব্যক্তিগত আক্রমণে ও ক্ষোভে শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ গুলো নিজের ফেসবুক আইডিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। পরে তাঁর বক্তব্যটি বিভিন্ন আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যটি ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, নেটিজেন ও সাধারণ মানুষজনের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। দীর্ঘ ৩২বছর ধরে দলের জন্য অর্থ, সময় ও শ্রমঘাম ব্যয় করে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ তথা ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা কারানির্যাতিত নেতা কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠানিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি মো: শরীফুল আলমকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্য প্রণ্যেদিতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্রহরণ করায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জসহ ভৈরব-কুলিয়ারচরে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ভৈরবের বিএনপি নেতাকর্মী, সচেতন মানুষ ও নেটিজেনরা নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইন ও গ্রুপে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

এঘটনায় ভৈরব বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপিকে দুর্বল ও বিভ্রান্ত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা অবিলম্বে এ ধরনের অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য বন্ধের দাবি জানান। তারা আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। এই মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি ক্ষোব্দ হন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে। ওই আসনে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলামকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভিপি সোহেল। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে একজন স্বচ্ছ ও ইমেজধারী পরিক্ষীত রাজনীতিবিদ ভালো মানুষকে জড়িয়ে অশালীন বক্তব্য দেয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং ব্যক্তিগত মানহানির শামিল। সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী এ প্রতিহিংসামুলক বক্তব্য পুরো বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই ভিপি সোহেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান তারা।

bnp-alam-image

কেন্দ্রীয় বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মো. শরীফুল আলম।

কেন্দ্রীয় বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমকে উদ্দেশ্য করে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সাধারণ নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বহু সচেতন নাগরিক। জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সভা করে অশালীন বক্তব্য দিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে নিজের আইডিতে প্রচার করার পরপরই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে রাজনৈতিক মহলে। আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে না পারায় খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শরীফুল আলমকে নিয়ে ব্যক্তিগত ও অশালীন মন্তব্য করে করা খুবই দুঃখজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহলের লোকজন। তারা বলছেন, “রাজনীতির মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদের আচরণে এটি মানায় না। কারো যোগ্যতা বা অবদানকে অবজ্ঞা করা এবং বিদ্বেষপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করা কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে কিশোরগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন মো. শরীফুল আলম। তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম কারণ, তিনি মাঠে-ঘাটে নিয়মিত পদাচারন, দলের সংকটকাল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে সামনের সারিতে তাঁর অবস্থান, রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রতিবাদ, মানববন্ধন, যে পরিস্থিতিই হোক, নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন নিয়মিত। তাছাড়া দলের প্রতি আনুগত্য ও সাংগঠনিক দক্ষতা। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি’র দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন প্রতিটি পদে পদে। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সমন্বয় করা, নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা ও দ্বন্দ্ব প্রশমনে তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও আচরণে শালীনতা, ভদ্রতা ও মানবিকতাই ছিলো তাঁর দীর্ঘ জীবনের একমাত্র বৈশিষ্ট। আর দলের ভেতর ও বাইরে তিনি সবসময় সংযত ভাষা ব্যবহার ও পরিমিত আচরণের জন্য পরিচিত। কখনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে জড়াননি বলেই তাঁর প্রতি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেন তিনি। এই যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬, ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনে ধানের শীষের প্রতীকে নিরষ্কুশ বিজয় নিয়ে সংসদে গিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভুমিকা রাখবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ। কোন ষড়যন্ত্রই শরীফুল আলমের তিলতিল করে গড়ে তোলা জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করতে পারবেনা বলে বিশ^াসী কর্মী-সমর্থকরা।

facebooj-post-image

ইটালি প্রবাসী বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান কাপনের প্রতিবাদ মন্তব্যটি পাঠকদের জন্য হুবহুব তুলে ধরা হলো:

এদিকে ফেসবুকে অসংখ্য নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের লোকজন ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ কওে প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ভৈরব শহরের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ইটালি প্রবাসী বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান কাপনের প্রতিবাদ মন্তব্যটি পাঠকদের জন্য হুবহুব তুলে ধরা হলো:
“এক নজরে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল” তিনি বেয়াদবিকে পুঁজি করে কিশোরগঞ্জ শহরে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের রাজনৈতিক উত্থান। ১৯৯১সাল থেকে ১৯৯৬সাল বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল। কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সুবাদে কিশোরগঞ্জ শহরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, আর বেয়াদব হিসাবে এক সমালোচিত আতংকের নাম ছিল খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। বিএনপির ঐ ৫বছরে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদর, জেলা প্রশাসনের তৎকালীন এমন কোন সরকারি কর্তা ব্যক্তি নাই যারা সোহেলের বেয়াদবি থেকে রেহায় পেয়েছেন।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশীশক্তি প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ-বিত্ত কামিয়ে নিয়েছেন ঐ সময়েই। নিজে নেশা না করলেও রাজনৈতিক সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের নিজ খরচে নেশার জগতে উদ্বুদ্ধ করে জীবন ধ্বংস করেছে শহরের অনেক যুবকের। তার ছাত্ররাজনীতি সহযোদ্ধা তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফ ভাই ধার ধারেননি অর্থ-বিত্ত-বেয়াদবি কিংবা সন্ত্রাসী করে ফায়দা লুটার। শরীফ ভাই, কঠিন জীবন, সংগ্রামে শ্রম, ঘাম, মেধা দিয়ে আইন পেশায় পরবর্তীতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এমনকি কিশোরগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত হয়েছিলেন, যেটা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের পক্ষে কোন দিনই সম্ভব না চ্যালেঞ্জ করে বললাম। তার এমপি হওয়ার খায়েশ তো নিতান্তই দিবাস্বপ্ন।
রাজনীতি বুঝার সময় থেকে যতদূর জানি, কিশোরগঞ্জের বিএনপিকে একাধিক ধারায় বিভক্ত রাখার মুলকারিগর ছিলেন তিনি, বরাবরই ছিলেন গ্রুপিং মাষ্টার। বেয়াদব রাজনীতিতে সহসী হয়না, সোহেল সাহেবের বেলায় তার ব্যতায় ঘটবেনা লিখে রাখতে পারেন। আর বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের গর্ব, কিশোরগঞ্জ জেলার কৃতীসন্তান, ভৈরব-কুলিয়ারচরের আপামর জনতার নেতা শরীফুল আলম কিন্তু সোহেল সাহেবের দয়ামায়ায় নেতা হয়নি। সুদীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, মানুষের ভালোবাসায় তিনি আজ কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে একটি স্বচ্ছ ইমেজের মুখ। গতকাল খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল সাহেবের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য ও ফলশ্রুতিতে তাঁর কর্মীদের অশালীন শ্লোগান সোহেল সাহেবের রাজনীতির কবর রচনা করে দিয়েছে।

 

নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল

Author

সত্য খবর, সব সময়ই
নিউজ টুডে বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম