কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঘন কুয়াশার আড়ালে ভয়াবহভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ ছাত্রসমাজের। পৌর শহর ও আশপাশের ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে ভোর সকালে ও সন্ধ্যার পর সংঘটিত হচ্ছে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পথচারী সাধারণ মানুষ। আজ ৩ জানুয়ারি, শনিবার সকাল ৬টার দিকে শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোহরাব মিয়া ও তার স্ত্রী ছিনতাইয়ের শিকার হন। একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র ছুরি ও চাকুর ভয় দেখিয়ে সোহরাব মিয়ার স্ত্রীর কানের দুল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে ১জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া ও বাঁশগাড়ী সংযোগ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল আরোহী সজল মিয়া (২০) গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে প্রাণ হারান। এবং রামিম (১৭) ও জোনায়েদ (১৬) নামে আরও দুইজন সঙ্গী আহত হন। নিহত সজল মিয়া শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা গ্রামের মধ্যেরবাড়ির চাঁন মিয়ার ছেলে।
ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম হৃদয় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বারবার রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করলেও কার্যকর ও দৃশ্যমাণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে আমরা রাস্তায় নামতে চাইনা। দ্রুত জননিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আবারও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।জাহিদুল ইসলাম জানান, শহরের ভৈরব বাজারের প্রবেশমুখ বুমপট্টি, আনোয়ারা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, স্টেশন রোডের পলাশ মোড়, পৌর কবরস্থানের সামনে, নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্ট এলাকা, পাওয়ার হাউজ এলাকা, নাটাল মোড়, হাজী আসমত কলেজেের পিছনের সড়ক, চন্ডিবের কবরস্থান এলাকা, হাসপাতাল রোডের গাছতলাঘাট ব্রীজ ও চন্ডিবের হিন্দু পাড়া এলাকা, বাঁশগাড়ি যাওয়ার প্রধান সড়কের পুলতাকান্দা ও আদর্শপাড়া গ্রামের মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোতে প্রতিনিয়তই ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ও আতঙ্কিত এলাকায় জরুরি টহল ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানায়। প্রশাসনের প্রতি তাঁর পরামর্শ সন্ধ্যার পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ছিনতাই প্রবণ এলাকায় নিয়মিত ও দৃশ্যমান টহল জোরদার করার। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপনেরও দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শীতের কুয়াশাকে পুঁজি করে পৌর শহর থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ছিনতাইকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভোরবেলায় নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় নারী-পুরুষ, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসন ভুমিকা আরো জোরালোর করার দাবি জানান। ছিনতাই বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে “ভয় নয়, নিরাপদ শহর চাই” শ্লোগানে ভৈরবের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ আবারও রাজপথে নামার হুশিয়ারির কথা বলেন।
নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল
