কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নাম পরিচয়হীন এক পথশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দূর্জয় মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের পাশে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে ভৈরব থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় লোকজন। পরে বিকাল ৬টার দিকে ভৈরব থানার এস আই তাহসিন পুলিশ ফোর্স ও ডোমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
আনুমানিক ১২ বছর বয়সী এই শিশুটির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ অবস্থায় সে ওই স্মৃতি স্তম্ভে পড়ে ছিল। ভবঘুরে ভেবে হয়তো কেউ তেমন গুরুত্ব দেয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অসুস্থ দুর্বল শরীর নিয়ে দিন কাটাতে কাটাতে আজ দুপুরের পর সে নীরবেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো কেমন কেটেছে, সে কি কাউকে খুঁজছিল, নাকি শুধুই বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত ছিল, সে প্রশ্ন আজও অজানা রয়ে গেছে। তার এমন মৃত্যু যেন হাজারো পথশিশুর করুণ আর্তনাদের স্বাক্ষী হয়ে এই সমাজের কাছে এক নীরব প্রশ্ন রেখে যায়, আমরা কি দেখেও না দেখার ভান করছি?
আজ তাঁর পরিচয় নেই, নেই কোনো স্বজনের কান্না। অথচ সেও তো কারো আদরের সন্তান ছিল। যে বয়সে তাঁর রঙিন ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাকে কাটাতে হয়েছে পথে ঘাটে অনাহারে-অবহেলায়।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। কয়েকদিন ধরেই তাকে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে দেখা যেত। তার পরিচয় শনাক্তে বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত না হলে, পৌর কবরস্থান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিশুটিকে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
