শিরোনাম
Home » সর্বশেষ » বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষা অনুরাগী রফিকুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

ভৈরবে শোকের ছায়া;

বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষা অনুরাগী রফিকুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

60 / 100 SEO Score

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ ও হালিমা সাদিয়া মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, নারী শিক্ষার অগ্রদূত, বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী ও সমাজসেবক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ সোমবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ভৈরবজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুরের মরহুম রমজান আলী মিয়ার নাতি এবং মরহুম আতিউর রহমান লাল মিয়ার বড় ছেলে। মরহুমের নামাজে জানাজার আগে ভৈরব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা ছিলেন এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

ভৈরব অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অভূতপূর্ব অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৮৭ সালে নিজস্ব প্রায় দুই একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন “রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ”। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর আগে ১৯৮২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন- ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীতে হালিমা সাদিয়া মহিলা মাদ্রাসা সহ আরও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। শুধু শিক্ষা নয়, ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান।


রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাব্রতী ও সমাজসংস্কারক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিক্ষা বিস্তারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
আজ সোমবার বাদ আসর রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সন্ধ্যায় ভৈরব পৌর কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ধারিত স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাদল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. রমজান আলী, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও মরহুমের ছোট ভাই মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৩ সহস্রাধিক মানুষ।

মরহুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাদল, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যাপক সত্যজিৎ দাস ধ্রুবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল

Author

সত্য খবর, সব সময়ই
নিউজ টুডে বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম