কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আলোকিত সমবায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আলম দম্পতি ও স্টেডিয়াম পাড়ার সুলেমান দম্পতির মধ্যে মারধর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগসহ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আজ ১৮ এপ্রিল, শনিবার বেলা ১১টায় পৌরশহরের গাছতলাঘাটের কলেজ পাড়া এলাকায় আলোকিত সমবায় সমিতির কার্যালয়ে মাসুদ আলম দম্পতি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং দুপুর আড়াইটায় কমলপুর লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সুলেমান মিয়া দম্পতি।
আলোকিত সমবায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আলম ও তাঁর স্ত্রী রিতা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মাসুদ আলম ও রিতা আক্তার সমিতির গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে স্টেডিয়াম এলাকার টাওয়ারের মোড়ে অভিযুক্ত সুলেমান মিয়া (৩২)সহ কয়েকজন যুবক এই দম্পতিকে ইভটিজিং করেন বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী রিতা আক্তার এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় যুবকরা ওই দম্পতিকে মারধর, শ্লীলতাহানিসহ নগদ টাকার ব্যাগ ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে জানান তারা। এ ঘটনায় মাসুদ আলম বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতেই ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
মাসুদ আলম আরও অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে সুলেমানসহ কিছু যুবক তাঁর এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়কে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করায় তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এ কারণে প্রতিপক্ষ তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান এই দম্পতি।
অপরদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো মাসুদ আলম দম্পতির বিরুদ্ধে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাল্টা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন সুলেমান মিয়া দম্পতি। সুলেমান মিয়া অভিযোগ করেন, ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাত ২টার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ মাসুদ আলমসহ ৮-১০ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়।
এ সময় তার স্ত্রী ইমা বেগম এবং তাদের ৪ বছরের শিশুকন্যা ও আড়াই বছরের পুত্রশিশুকে আহত করা হয়। তাছাড়া ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ ২ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সুলেমানের স্ত্রী ইমা বেগম জানান, ওই দিন রাতে তাদের বাড়িতে হামলার সময় তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। তার দুই শিশুসন্তানও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন ইমা বেগম দম্পতি।
এই ঘটনায় ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, দুই পক্ষই অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এম.আর রুবেল / নিউজ টুডে
