শিরোনাম
Home » সর্বশেষ » চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে “দায়িত্ব” সাময়িক স্থগিত, ভোগান্তিতে সেবা প্রত্যাশীরা

ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ;

চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে “দায়িত্ব” সাময়িক স্থগিত, ভোগান্তিতে সেবা প্রত্যাশীরা

54 / 100 SEO Score

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ৩নং শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি সাময়িক স্থগিত করায় পরিষদের পুরো প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে- জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ভিজিডি, ভিজিএফসহ জরুরি নাগরিকসেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন ভৈরব থানা ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর সাময়িকভাবে লিখিত দায়িত্ব পান পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আল-আমিন। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর দক্ষতার সঙ্গে পরিষদের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এরিমধ্যে পূর্বের চেয়ারম্যান প্রায় আট মাস কারাভোগ শেষে ইউএনওর মৌখিক অনুমতি নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর (রোববার) দুপুরে মিজানুর রহমান রিপন তাঁর পক্ষের লোকজন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এসে অফিস শুরু করেন।
এই খবর জেলা প্রশাসনে পৌঁছালে পরদিন সোমবার প্রশাসনের নির্দেশে চেয়ারম্যান রিপন ও প্যানেল চেয়ারম্যান আল-আমিন উভয়ের দায়িত্ব (কার্যক্রম) সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ফলে গত একসপ্তাহ ধরে চেয়ারম্যান পদ কার্যত শূন্য হয়ে পড়ে এবং পরিষদের সব কার্যক্রম থমকে যায়। এই অচলাবস্থায় জনসেবার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক মিয়া জানান, রোববার জরুরি কাজে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান না থাকায় কাজ করতে পারিনি। এতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। কখন চেয়ারম্যান বসবে তাও অনিশ্চিত নন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এখন সব সেবা বন্ধ হয়ে আছে।

চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আল-আমিন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান রিপন নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৫ আগস্ট থানা ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি ৮ মাস কারাভোগ করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ডিসি স্যারের লিখিত নির্দেশে আমি দায়িত্ব পাই, যা স্থানীয় সরকার বিভাগও জানে। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে রিপন জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই জোর করে দায়িত্ব নিতে আমাকে হুমকি ও হয়রানি করতে থাকেন। সর্বশেষ বিদায়ী ইউএনও শবনম শারমিনের মৌখিক নির্দেশে ৩০ নভেম্বর, মিজানুর রহমান রিপন তাঁর লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক চেয়ার দখল করেন। বিষয়টি জানার পর ডিডিএলজি স্যারের নির্দেশে তাকে পরিষদে যেতে নিষেধ করা হয় এবং ওই দায়িত্ব সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেয়া হয়। বর্তমানে দুইজনের কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারছিনা। তবে লিখিতভাবে আমি এখনো দায়িত্বে আছি। জনভোগান্তি কমাতে এব্যাপরে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ ও সহায়তা কামনা করছি।

এবিষয়ে শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন বলেন, আমি থানা ভাঙচুর মামলায় জেলে থাকার সময় প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আল-আমিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমি ফেরার পর স্বাভাবিকভাবেই আমার দায়িত্ব আমি পাওয়ার কথা। অদৃশ্য কারণে দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়ানোর পরও কোন কাজ হয়নি। পরে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়েছে অভিযোগ তদন্ত করা জন্য। তদন্ত রিপোর্টে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি প্রশাসন। রিপোর্টে বলা হয়েছে দুইজনের মধ্যে মনের অমিলের কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে। দু’জনে মিলেমিশে কাজ করার কথা বলেছেন প্রশাসন। ইউএনওর অনুমতি পেয়ে আমি ৩০ নভেম্বর, রোববার অফিস করা শুরু করি। তিনদিন পর প্রশাসন থেকে জানানো হয় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুইজনের কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারবো না। আমাকে যেহেতু সাসপেন্ড করেনি। আমি চাই ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আমার দায়িত্ব যেন ফিরিয়ে দেয়া হয়।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. মামুনুর রশিদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তাধীন বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ (ইউনিয়ন পরিষদ-১) শাখার উপ-সচিব নূরে আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাইনি। প্রস্তাব পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল

Author

সত্য খবর, সব সময়ই
নিউজ টুডে বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম