Home » সর্বশেষ » শিশুদের ডিপ্রেশন বাড়াচ্ছে সেলফোনের ব্যবহার

মানসিক স্বাস্থ্য:

শিশুদের ডিপ্রেশন বাড়াচ্ছে সেলফোনের ব্যবহার

56 / 100 SEO Score

সেলফোনটি আপনার শিশুকে ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—এ কথা শুনে অবাক লাগতেই পারে। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় শিশুরা মোবাইলে ভিডিও দেখে হাসিমুখে খাবার খাচ্ছে কিংবা গেম খেলেই সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু এই সাময়িক স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় ধরনের মানসিক ঝুঁকি। সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী Pediatrics Journal-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ বছর বয়সের আগে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করা শিশুদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা, স্থূলতা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন Dr. Ran Barzilay, যিনি Children’s Hospital of Philadelphia-এর শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পরামর্শ দেন—যতটা সম্ভব দেরিতে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া উচিত। এই গবেষণায় University of Pennsylvania, University of California, Berkeley এবং Columbia University-এর গবেষকরাও অংশ নেন। গবেষকরা বলেন, স্মার্টফোন ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটিই একমাত্র কারণ—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে এর প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ও ব্যবহার না করা ১২ বছর বয়সী শিশুদের তুলনায় দেখা গেছে—

ঘুমের অভাবের ঝুঁকি: ১.৬ গুণ বেশি
স্থূলতার ঝুঁকি: ১.৪ গুণ বেশি
বিষণ্নতার ঝুঁকি: ১.৩ গুণ বেশি

এছাড়া, ৪ বছর বয়স থেকে শুরু করে প্রতি এক বছর আগে স্মার্টফোন পাওয়ার ফলে ঝুঁকি প্রায় ১০% করে বাড়ে।

ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ:
শিশুর শোবার ঘরে রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ রাখুন।

বিকল্প কার্যক্রম:
খেলাধুলা, বই পড়া বা সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।

খোলামেলা আলোচনা:
শিশু মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না—তা নিয়ে কথা বলুন।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত:
সন্তানের বয়স ও প্রয়োজন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

শিশুদের বিষণ্নতার লক্ষণ:

কয়েক সপ্তাহ ধরে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি—

সব সময় মন খারাপ বা খিটখিটে আচরণ
নিজেকে দোষারোপ করা বা আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
আগ্রহ ও শক্তির অভাব
ঘুম ও খাবারের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন
অকারণে মাথা বা পেট ব্যথা
বাবা-মা হিসেবে যা করবেন

কথা বলুন:
শিশুর অনুভূতি শুনুন, তাকে বোঝান আপনি পাশে আছেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

ধৈর্য ধরুন:
রাগ না করে শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলান।

সময় দিন:
প্রতিদিন কিছু সময় একসঙ্গে কাটান—এটাই সবচেয়ে কার্যকর।

সূত্র: এবিসি নিউজ, কিডস হেলথ

নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল

Author

সত্য খবর, সব সময়ই
নিউজ টুডে বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম