কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী পুরুষসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে ১৩জনকে আটক করা হয়। ১০ জানুয়ারি শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানাযায়, ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে মধ্যেরচর একাডেমির উদ্যোগে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর ঈদগাঁ মাঠে ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ ও মধ্যেচর কলেজপাড়া একাদশের ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মধ্যেরচর কলেজপাড়া একাদশ প্রথম গোল দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ দুইটি গোল দেয়াকে কেন্দ্র করে মাঠেই দুই দলের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের রূপ নেয়। পরে ভৈরব থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এই ঘটনায় আজ শনিবার ১০জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার জন্য আলোচনায় বসে। আলোচনার সময় আবারও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজিত দেখা দিলে মধ্যেরচর পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়ার লোকজন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে দা, লাঠি, বল্লম, টেঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুইপক্ষের অন্তত ২০জন নারী পুরুষ আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম. আজিমুল হক, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনাস্থলে যায়। টানা তিনঘণ্টা যাবত চলা সংঘর্ষটি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহতদের মধ্যে সেলিম মিয়া (৩৫), ওয়াসকুরুনী (৪৫), জিনিয়া বেগম (২৪), ইমন মিয়া (২২), সাদ্দাম মিয়া (৩০), সাজু মিয়া (৫৪), সবুজ মিয়া (৩৩), শরীফ মিয়া (২৫), মাহবুল মিয়া (৩৪), পাভেল মিয়া (২৬), ইকবাল হোসেন (৫১), সালমান ফরাজিকে (১৭) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা এসে চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে সবুজ মিয়া ও সাদ্দাম মিয়ার অবস্থা গুরুতর হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল করীম।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার বিকেলে হট্টগোল হয়। এনিয়ে আজ ১১টার দিকে মধ্যেরচর পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়ার লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর ম্যাজিস্ট্রট ও সেনাবাহিনীর ঘটনাস্থলে আসে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে ১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল
