কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় মরিয়ম নামে ৩ বছর বয়সী একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বেতাগা গ্রামে। শিশুটির বাবার নাম সুজন মাঝি। আজ ২০ ডিসেম্বর, শনিবার দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বেতাগা গ্রামের মেম্বার মজিউল মিয়া, শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মেরাজ মিয়া, বাছির মেম্বার, জালাল মেম্বার, সালাম মেম্বার প্রমুখ।
জানা যায়, সুজন মাঝির স্ত্রী মনি বেগম কয়েকদিন আগে তাঁর দুই সন্তানকে রেখে শিশু মরিয়মকে সঙ্গে নিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে পালিয়ে ভৈরবের ভবানীপুর চলে আসেন। এবং তিনি তাঁর কোলের ৩বছরের শিশুটিকে এক ব্যক্তির কাছে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী সুজন মাঝি টুঙ্গিবাড়ি থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন শিশুটিকে নিয়ে মনি বেগম ভৈরবে অবস্থান করছেন। তাঁর খোঁজে আজ শনিবার দুপুরে সুজন মাঝি তাঁর এলাকার মজিউল মেম্বারসহ পরিবারের লোকজন ভৈরবের শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সালাম মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ অবগত হয়ে ভুক্তভোগীদেরকে তাঁর অফিসে আসতে বলেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগ শুনে চেয়ারম্যান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। শিশু উদ্ধারের পর চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার বাবা সুজন মাঝির হাতে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, মুন্সিগঞ্জ থেকে ৩বছরের শিশু মরিয়মকে নিয়ে ভৈরবে আসনে। পরে এক ব্যক্তির কাছে শিশুটিকে বিক্রিও করে দেন শিশুরটি মা। পরে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেই এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিশুপাচার ও বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধ রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল
