কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের তাড়া খেয়ে জীবন বাঁচতে গিয়ে সড়কে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সজল মিয়া (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রামিম (১৭) ও জোনায়েদ (১৬) নামে আরও দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রামিমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া ও বাঁশগাড়ী সংযোগ ব্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সজল মিয়া উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা গ্রামের মধ্যের বাড়ির বাসিন্দা চাঁন মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সজল মিয়া তার চাচাতো ভাই জোনায়েদকে নিয়ে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের ফুফার বাড়িতে যান। সেখান থেকে ফুফা কাসেম মিয়ার মোটরসাইকেল চালিয়ে ফুফাতো ভাই রামিমকে সঙ্গে নিয়ে তিনজন রাত ১০টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথিমধ্যে আদর্শপাড়া ও বাঁশগাড়ী সংযোগ ব্রিজের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের থামানোর সংকেত দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রামিমের অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী জোনায়েদ মিয়া জানান, ছিনতাইকারীরা তাদের থামানোর সংকেত দিলে ভয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল চালানো হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতের চাচাতো ভাই মাহবুব ব্যাপারী বলেন, সকালে তালের রস খেতে যাওয়ার জন্য ফুফার মোটরসাইকেল আনতেই সজল রাতে ফুফার বাড়িতে গিয়েছিল। সজল একজন পেশাদার মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। তার পরিবারে এক ভাই ও এক বোন রয়েছে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার কৌশিক পাল বলেন, সজল মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। রামিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। প্রাথমিকভাবে ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের সুস্পষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার মরদেহ নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
নিউজ টুডে / এম.আর রুবেল
